নেটওয়ার্ক টপোলজি: কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কি কি

নেটওয়ার্ক টপোলজি বলতে বুঝায় দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা স্যুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার পদ্ধতিকে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি

নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কি কিঃ বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। বন্ধুরা আজকে যে বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বিষয় নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কি কি? তাহলে চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক আজকের টপিক।

আজকে আমরা জানেবো, নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কি কি পাশাপাশি আপনাদের করা প্রশ্ন যেমন:- নেটওয়ার্ক টপোলজি কি এর প্রকারভেদ চিত্রসহ বর্ণনা কর, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টপোলজি কি, এবং নেটওয়ার্ক টপোলজি কি এর প্রকারভেদ ইত্যাদি এই বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করবো। তাহলে চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক আজকের টপিক।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?

সাধারণত দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা স্যুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার পদ্ধতিকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়। নেটওয়ার্ক ভুক্ত কম্পিউটারগুলো তার দিয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে তারের ভিতর দিয়ে ডাটা আসা যাওয়ার সময় কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি না হয়।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কত প্রকার ও কি কি?

নেটওয়ার্ক টপোলজি প্রধাণত ছয় প্রকার।

১। বাস টপোলজি (Bus Topology)
২। রিং টপোলজি (Ring Topology)
৩। স্টার টপোলজি (Star Topology)
৪। মেস টপোলজি (Mesh Topology)
৫। ট্রি টপোলজি (Tree Topology)
৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybird Topology)

বাস টপোলজি (Bus Topology) | নেটওয়ার্ক টপোলজি

বাস টপোলজি

যে টপোলজিতে একটি মাত্র মূল তার বা ক্যাবলের সাথে কয়েকটি কম্পিউটার যুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে। বাস টপোলজির মূল তার বা ক্যাবলকে ব্যাকবোন (Backbone) বলে। প্রতিটি কম্পিউটার এই মূল তারের সাথে যুক্ত থাকে।

মূল তারের উভয়প্রান্তে টারমিনেটর থাকে। বাস টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রিয় কম্পিউটার থাকে না। নেটওয়ার্ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যখন কোন ডেটা বা সংকেত স্থানান্তর করা হয় মূলত এটি কার্যকর হয় ইলেকট্রিক সিগন্যালের সাহায্যে।

সিলন্যাল যখন মূল বাসে চলাচল করে তখন নেওয়ার্কভুক্ত সকল কম্পিউটার এই সিগন্যাল পরীক্ষা করে এবং শুধুমাত্র কাঙ্খিত কম্পিউটার সিগন্যাল গ্রহন করে।

বাস টপোলজির সুবিধা

১। বাস টপোলজি সহজ সরল।
২। এতে কম তারের প্রয়োজন হয় তাই খরচ কম।
৩। ছোট আকারের নেটওয়ার্ক এর জন্য এই টপোলজি ভালো।
৪। সংগঠনে কোন একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে তা সরিয়ে নতুন একটি স্থাপন করা যায়।
৫। এই টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থাকে না।
৬। রিপিটার ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়।

বাস টপোলজির অসুবিধা

১। ডাটা চলাচলের গতি তুলনামূলক কম।
২। মূল বাস বা Backbone নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ সিস্টেম অচল হয়ে যায়।
৩। নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বেশি হলে ডাটা চলাচলের গতি কমে যাই।
৪। এই ধরনের নেটওয়ার্কে সৃষ্ট ত্রুটি নির্ণয় করা বেশ জটিল।

রিং টপোলজি (Ring Topology) | নেটওয়ার্ক টপোলজি

রিং টপোলজি

রিং টপোলজিতে একটি কম্পিউটার অপর একটি কম্পিউটারের সাথে এমনভাবে যুক্ত করা হয় যাতে সর্বশেষ কম্পিউটারকে প্রথম কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে রিংয়ের আকার ধারণ করে তখন তাকে রিং টপোলজি বলে।

এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানো ডেটা বা সংকেত বৃত্তাকার পথে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্দিষ্ট কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ না করে। রিং টপোলজিতে প্রতিটা কম্পিউটারের গুরত্ব সমান। 

রিং টপোলজি সুবিধা

১। এই টপোলজির প্রতিটা কম্পিউটার সমান গুরুত্বপূর্ণ।
২। এতে কোনো কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থাকে না।
৩। ডেটা আদান প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের উপর নির্ভর করতে হয় না।

রিং টপোলজি অসুবিধা

১। ডেটা চলাচলের গতি কম।
২। কম্পিউটারের সংখ্যা যত বাড়বে ডেটা চলাচলের গতি তত কমবে।
৩। কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে পুরো সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাবে।

স্টার টপোলজি (Star Topology) | নেটওয়ার্ক টপোলজি

স্টার টপোলজি

স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইসের সাথে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো যুক্ত থাকে। কেন্দ্রিয় ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব বা সুইচ। হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো পরস্পর যোগাযোগ করতে পারে। ডেটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হাব।

স্টার টপোলজিতে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের জন্য প্রথমে হাব প্রেরণ করতে হয়। এরপর হাব ডেটা গ্রহণকারী কম্পিউটারে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। হাব এর ক্ষমতা যত বেশি হবে তত বেশি কম্পিউটার সংযোগ দেওয়া যাবে। LAN এর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।

স্টার টপোলজি সুবিধা

১। ডেটা চলাচলের গতি বেশি।
২। নতুন একটি কম্পিউটার সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র সংযোগ দিলেই চলে।
৩। একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো সিস্টেম অকেজো হয় না।
৪। কেন্দ্রীয়ভাবে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রন করা যায় বলে এুটি নিরূপণ করা সহজ।

স্টার টপোলজি অসুবিধা

১। হাব নষ্ট হয়ে গেলে পুরো সিস্টেম অকেজো হয়ে যাবে।
২। প্রতিটি কম্পিউটার তারের মাধ্যমে হয় বলে প্রচুর তার লাগে।

মেস টপোলজি (Mesh Topology) | নেটওয়ার্ক টপোলজি

মেস টপোলজি

মেস টপোলজি প্রতিটি কম্পিউটার প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। এই ব্যাবস্থায় প্রতিটি কম্পিউটার যেকোন কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। এ ধরনের সংযোগ ব্যাবস্থাকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট লিংক বলে।

মেস টপোলজির সুবিধা

১। মেস টপোলজির সংগঠন অবকাঠামো অনেক শক্তিশালী।
২। যেকোন দুটি কম্পিউটারের মধ্যে দ্রুত সংকেত আদান প্রদান হয়।
৩। নেটওয়ার্কের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যাই।
৪। কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে পুরো ব্যাবস্থা অকেজো হয় না।

মেস টপোলজির অসুবিধা

১। সংযোগ লাইনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে খরচ বেশি হয়।
২। এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কের সংযোগ দেওয়া বেশ কঠিন।

ট্রি টপোলজি (Tree Topology) | নেটওয়ার্ক টপোলজি

নেটওয়ার্ক টপোলজি

সাধারণত যে টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো বিন্যস্ত থাকে তাকে ট্রি টপোলজি বলেট্রি টপোলজি সংগঠনে কম্পিউটার গুলি বিভিন্ন স্তরে সংযুক্ত থাকে। বিভিন্ন স্তরের কম্পিউটাগুলি হাব বা সুইচের মাধ্যমে একটির সঙ্গে অন্যটি সংযুক্ত থাকে।

প্রথম স্তরের কম্পিউটারকে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে আবার দ্বিতীয় স্তরের কম্পিটারগুলিকে তৃতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে। বিভিন্ন টার্মিনালের মধ্যে দ্রুত গতিতে ডেটা আদান প্রদানের জন্যে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হোস্ট কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

ট্রি টপোলজির সুবিধা

১। এ সংগঠনের সুবিধা হচ্ছে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টির মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ সুবিধাজনক।
২। অফিস ব্যবস্থাপনার কাজে এ নেটওয়ার্ক গঠন বেশি উপযোগী।

ট্রি টপোলজির অসুবিধা

১। মূল কম্পিউটার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
২। নেটওয়ার্ক গঠন জটিল প্রকৃতির।

হাইব্রিড টপোলজি (Hybird Topology) - নেটওয়ার্ক টপোলজি

যে টপোলজি দুই বা ততাধিক টপোলজি একত্রিত হয়ে যে টপোলজি গঠিত হয় তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে। এই ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজি সংমিশ্রণ দেখা যায় তাই একে হাইব্রিড টপোলজি বলে।

হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা

১। এ ধরনের নেটওয়ার্কের সমস্যা নির্ণয় করা সহজ।
২। এ ধরনের টপোলজিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্কেও বৃদ্ধি করা যায়।

হাইব্রিড টপোলজির অসুবিধা

১। কোন এক অংশ নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক নষ্ট না হয়ে অংশ বিশেষ নষ্ট হয়ে যায়।
২। এ ধরনের টপোলজিতে ব্যবহৃত হাব সব সময় সচল রাখতে হয়।

সর্বশেষ কিছু কথা - নেটওয়ার্ক টপোলজি

বন্ধুরা আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারলাম নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কি কি এছাড়াও পাশাপাশি জানলাম নেটওয়ার্ক টপোলজি কি এর প্রকারভেদ চিত্রসহ বর্ণনা কর, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টপোলজি কি, নেটওয়ার্ক টপোলজি কি এর প্রকারভেদ ইত্যাদি বিষয়ে জানলাম।

আর এই নেটওয়ার্ক টপোলজির আওতায় রয়েছে  বাস, রিং, স্টার, মেস, ট্রি এবং হাইব্রিড। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে আমরা সাধারণত ডেটা আদান প্রদান বা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই নেটওয়ার্ক টপোলজি সম্পর্কে অনেকই অবগত নয় তাই আর্টিকেল সুবিধারতে দেওয়া হলো। তবে মনে রাখবে আমরা আপনাদের সব সময় সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি।
  
তাই কোথাও যদি আপনারা বুঝতে না পাড়েন তাহলে কমেন্ট করুন। আশা করি, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। বন্ধুরা এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ‍Amarload.com এর সাথে থাকার জন্য।

আরও পড়ুনঃ