১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে আলোচনা কর



১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে আলোচনা কর
১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে আলোচনা কর

১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে আলোচনা কর

  • অথবা,  ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে লেখ।
  • অথবা, ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন সম্পর্কে ধারণা দাও ।

উত্তর : ভূমিকা : ব্রিটিশ শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অপসারণ ঘটায়, আর বিলেতি মডেলের নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন করে। 

কিন্তু ১৮৫৮ সালে কোম্পানি শাসনের অবসান এবং সংসদীয় অঙ্গীকার এদেশের জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারে অংশীদার করে তোলে, আর স্থানীয় শাসনে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় । তাই সরকার ১৮৭০ সালে চৌকিদারি আইন পাস করে ।

১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদার আইন : ১৮৭০ সালের ২২ জানুয়ারি বাংলার আইনসভা লর্ড মেয়র প্রস্তাবনার আলোকে গ্রাম চৌকিদারি আইন ১৮৭০ পাস করে। 

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটেছিল, মূলত ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদারি আইন দ্বারা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হয়। 

এ আইন গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পঞ্চায়েত নিয়োগ করার ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ন্যস্ত করে। গ্রাম চৌকিদারি আইন, ১৮৭০ এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো :

১. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৫–৭ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি পঞ্চায়েত গঠন করেন।

২. পঞ্চায়েতের প্রাথমিক কাজ ছিল গ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চৌকিদার নিয়োগ করা ।

৩. চৌকিদারের বেতন প্রদানের জন্য গ্রামের জনগণের কাছ থেকে খাজনা নির্ধারণ ও আদায় করাও ছিল পঞ্চায়েতের কাজ ।

৪. কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে যেকোনো ব্যক্তিকে সদস্যপদ গ্রহণে বাধ্য করতে পারতেন ।

৫. নিজেদের মধ্যে থেকেই পঞ্চায়েত সদস্যরা একজন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতেন। 

৬. একটি পঞ্চায়েতের অধীনে সাধারণত ৬০টি বাড়ি থাকতো।

গ্রাম চৌকিদারি আইন, ১৮৭০ দ্বারা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হলেও কতকগুলো ত্রুটির কারণে তা কার্যকারিতা লাভ করতে পারেনি। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

ক. এ ব্যবস্থার অন্যতম ত্রুটি ছিল ব্যক্তির অনিচ্ছা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তাকে পঞ্চায়েতের সদস্য হতে বাধ্য করতো। 

খ. চোকিদারদের নিয়োগ ক্ষমতা থাকতো পঞ্চায়েতের হাতে কিন্তু চৌকিদারকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা ছিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বা তার অনুমোদিত কর্মকর্তার হাতে, যা আইনের অন্যতম ত্রুটি ছিল।

গ. এ আইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে বিলুপ্ত করা হয়নি, যার ফলে এটি তেমন কার্যকরী ছিল না।

ঘ. পঞ্চায়েত সদস্যরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মনোনীত হতো। যার ফলে জনগণের পছন্দ অপছন্দের কোনো মূল্য ছিল না। 

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মূলত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য গ্রাম চৌকিদারি আইন ১৮৭০ পাস করেছিল। 

এ আইনের ফলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পঞ্চায়েত মনোনীত করতো এবং পঞ্চায়েত গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চৌকিদার নিয়োগ করতো। পঞ্চায়েতের প্রধান কাজ ছিল খাজনা আদায় করা। কিন্তু কিছু ত্রুটির কারণে আইনটি কার্যকর হতে ব্যর্থ হয় । 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url