বায়োমেট্রিক্স কি (What is Biometrics)?

বায়োমেট্রিক্স কি - What is Biometrics - বায়োমেট্রিক্স কাকে বলে - বায়োমেট্রেক্সের প্রকারভেদ এবং ব্যবহার
হাই প্রিয় বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। গত পর্বে আমরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি (What is virtual reality)? এই বিষয়গুলি নিয়ে আমি গতপর্বে পোস্টটিতে আলোচনা করেছি। আজকে আমরা জানবো বায়োমেট্রিক্স কি (What is Biometrics)? তাহলে বন্ধুরা শুরু করা যাক।
বায়োমেট্রিক্স কি (What is Biometrics)?

বায়োমেট্রিক্স কি (What is Biometrics)? 

মানবদেহের অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য শানক্ত এবং বিশ্লেষন করাকে বায়োমেট্রিক্স বলে। চলুন একটু বিস্তারিত ভাবে জেনে নেই, বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়। গ্রীক শব্দ "bio" যার অর্থ জীবন ও "metric" যার অর্থ পরিমাপ করা এর থেকে উৎপত্তি হয়েছে বায়োমেট্রিক্স। 

তথ্য প্রযুক্তির প্রমানিতকরণের কাজে বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা হয়। বায়োমেট্রিক্স এর সাহায্যে মানুষের কিছু অঙ্গ-প্রতঙ্গ, সভাব, গুনাগুন ইত্যাদি ব্যবহার করে মানুষকে আলাদা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায়। সাধারণত মানুষের আঙ্গুলের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, মুখের গঠন, চোখের রেটিনা ইত্যাদি অঙ্গ-প্রতঙ্গের দ্বারা প্রমানিতকরণের কাজ করা হয়।

আইডেন্টিফিকেশন এবং এক্সেস কন্ট্রোল তথ্য ও প্রযুক্তিতে বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করেছে। বর্তমানে বহুল পরিমান বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে।

বায়োমেট্রেক্সের প্রকারভেদ (Classification of Biometrics)

মানুষের দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যথা-

১। ফিজিলজিক্যাল বা দেহের ও শরীরবৃত্তিয় বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রেক পদ্ধতি
  • ফিংগারপ্রিন্ট
  • হ্যান্ড জিওমিট্রি
  • আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান
  • ফেইস রিকোগনেশন
  • ডিএনএ (DNA)
২। বিহেভিওরাল বা আচরণগত বৈশিষ্ট্র্যের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
  • ভয়েস রিকগনিশন
  • সিগনেচার ভেরিফিকেশন
  • একজন ব্যক্তির টাইপ করার রিদম (টাইপিং কীস্ট্রোক)
বায়োমেট্রেক্সের প্রকারভেদ (Classification of Biometrics)
নিম্নে ব্যবহৃত কয়েকটি বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

ফিংগারপ্রিন্ট (Fingerprint)

ফিংগারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে একজন মানুষকে সহজে সনাক্ত করা যায়। একজন মানুষের আঙ্গুলের ছাপ অন্য মানুষের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।

ফিংগারপ্রিন্ট রিডার হচ্ছে এক ধরণের বায়োমেট্রিক ডিভাইস যার সাহায্যে আঙ্গুলের ছাপ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে কম্পিউটারের সফটওয়্যারে মাধ্যমে পূর্বে থেকে সংরক্ষিত ছাপের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক ডিভাইসের অপটিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আঙ্গুলের ছাপের ইমেজ গ্রহণ করা হয় এবং ইমেজটিকে বাইনারি বোডে রুপান্তরিত করে সংরক্ষণ করা হয়।
ফিংগারপ্রিন্ট (Fingerprint)

ফিংগারপ্রিন্ট এর ব্যবহার :

  • কোন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
  • প্রবেশাধিকার নিয়স্ত্রণ করতে।
  • পেমেন্ট সিস্টেম।
  • ডিএনএ (DNA) সনাক্তকরণে ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও কোন কোন ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এতে খরচ তুলনামূলক কম, ব্যক্তি সনাক্তকরণে কম সময় লাগে। সনাক্তকরণের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রায় শতভাগ

হ্যান্ড জিওমিট্রি (Hand geometry)

হ্যান্ড জিওমিট্রি হল বায়োমেট্রিক যা ব্যবহারকারীদের তাদের হাতের আকৃতি থেকে শনাক্ত করে। প্রত্যেক মানুষের হাতের আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন ও সাইজ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে Hand geometry পদ্ধতিতে সহজে মানুষকে সনাক্ত কর যায়।

হ্যান্ড জিওমিট্রি পদ্ধতিতে হ্যান্ড জিওমিট্রি রিডার দ্বারা হাতের দৈঘ্য, প্রস্থ, পুরুত্ব ইত্যাদি পরিমাপ করা হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকরীর হাতটি রিডারের নির্দিষ্ট স্থানে রাখার পর বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ৫ সেকেন্ডেরও কম কময়ের মধ্যে ডেটাবেজ সংরক্ষিত মানের সাথে প্রাপ্ত মানের পরীক্ষা করে ফলাফল প্রদান করে থাকে।
হ্যান্ড জিওমিট্রি (Hand geometry)

আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান (Iris and retina scan)

চোখের মণির চারপাশ বেষ্টিত রঙিন বলয় হচ্ছে আইরিশ। চোখের তারার রঙিন অংশকে সনাক্তকরণের জন্য আইরিস সনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। চোখের পিছনের অক্ষিপটের মাপ হচ্ছে রেটিনা স্ক্যান।

রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতিতে চোখের মনিতে রক্তের লেয়ারের পরিমান পরিমাপ করে মানুষকে সনাক্তকরণ করা হয়। আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতিতে মানুষকে সনাক্তকরণের জন্য মাথা ও চোখকে স্থির নির্দিষ্ট ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় লাগে।

উভয় পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় লাগে। এটি সাধারণত সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, মিলিটারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। ফলাফলের সুক্ষ্ণতা ফিংগারপ্রিন্ট, হ্যান্ড জিওমেট্রির তুলনায় অনেক বেশি।
আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান (Iris and retina scan)

ফেইস রিকোগনেশন (Face recognition)

ফেইস রিকগনিশন হল একজন মানুষের ফেইস বা মুখমন্ডলের সাথে অন্য মানুষের মুখমন্ডল সম্পন্ন আলাদা। এই পদ্ধতিতে কাউকে চিহ্নিত করার জন্য মানুষের মুখের গঠন প্রকৃতি পরীক্ষা করা হয়। যেমন দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য ও ব্যাস, ঠোটের আকার-আকৃতি ইত্যাদি পরিমাপ করা হয়।

ফেইস রিকোগনেশন পদ্ধতিতে কোন মানুষের মুখের ছবিকে কম্পিউটারের পূর্ব থেকে সংরক্ষণ করা হয়। ফেউস রিকোগনেশন পদ্ধতিতে কাউকে সনাক্তকরণের জন্য মানুষের মুখের ছবিকে কম্পিউটারের ছবির সাথে তুলনা করা হয়।

ফেইস রিকোগনেশন পদ্ধতির ব্যবহার :

  • আইডি নম্বর সনাক্তকরণে ব্যবহার করা হয়।
  • কোনো কক্ষের প্রবেশদ্বারে ব্যবহার করা হয়।
ফেইস রিকোগনেশন পদ্ধতির সুবিধা হল, এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য ও সফটওয়্যার নির্ভর পদ্ধতি এবং সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।
ফেইস রিকোগনেশন (Face recognition)

ডিএনএ (DNA)

ডিএনএ (DNA) বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Deoxyribonucleic Acid), মানুষ এবং অন্যান্য প্রায় সমস্ত জীবের বংশগত উপাদান। একজন মানুষের শরীরের প্রায় প্রতিটি কোষের একই ডিএনএ থাকে। 

বেশিরভাগ ডিএনএ কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত (যেখানে একে নিউক্লিয়াস ডিএনএ বলা হয়) তবে মাইটোকন্ড্রিয়াতে অল্প পরিমাণে ডিএনএ পাওয়া যেতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়া হল কোষের মধ্যে গঠন যা খাদ্য থেকে শক্তিকে এমন একটি ফর্মে রুপান্তর করে যা কোষ ব্যবহার করতে পারে।
ডিএনএ (DNA)

ভয়েস রিকগনিশন (Voice Recognition)

ভয়েস রিকগনিশন হল কন্ঠস্বরের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে কাউকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্তরণ করা যায়। প্রত্যেকে কন্ঠস্বরের ধ্বনির বৈশিষ্ট্য, সুরের উচ্চতা, স্পন্দনের দ্রুততা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা হয়। ভয়েস রিকগনেশন পদ্ধতিতে মানুষের সনাক্তকরণের জন্য মানুষের কন্ঠকে কম্পিউটারের সফটওয়্যারে মাধ্যমে আগে থেকে ইলেকট্রিক সিগন্যালে রুপান্তর করে ডেটাবেজ সংরক্ষণ করা হয়। 

তারপর কোন মানুষের কন্ঠস্বরকে ডেটাবেজ সংরক্ষিত ভয়েসের সাথে তুলনা করে পরীক্ষা করা হয়। এটি সাধারণত ব্যবহার করা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠনে টেলিফোনের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 

সিগনেচার ভেরিফিকেশন (Signature Verification)

সিগনেচার ভেরিফিকেশন হল ব্যবহারকারীর হাতে লেখা স্বাক্ষরকে পরীক্ষা করা হয়। এখানে অক্ষরের আকার, লেখার গতি, সময় এবং কলমের চাপকে পরীক্ষা করে ব্যবহারকারীর স্বাক্ষর সনাক্ত করা হয়।

আগে সকল কাজে পাসওয়ার্ড ব্যবহৃত হতো যা কিনা ভুলে যাওয়া বা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বায়োমেট্রিক্স এর মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। এখানে একজন ব্যক্তি আঙ্গুলের ছাপ, ডিএনএ এর সাথে অন্য ব্যক্তির মিল হবে না।


এই টপিক টি পুরোটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, এই টপিক এর ভিতর কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে আপনারা কমেন্ট করুন। আশা করি, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ ‍Amarload.com এর সাথে থাকার জন্য।

আড়ও পড়ুনঃ