গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করবো কিভাবে এই গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যায়। আপনি যদি মুখের ব্রণ উঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন....
গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় - বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। 

আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করবো কিভাবে এই গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যায়। আপনি যদি আপনার মুখের ব্রণ উঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাহলে এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

কারণ এখানে আমি আপনাকে বলবো, কিভাবে গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়। তো চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক আজকের টপিক।
গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

ত্বকে ব্রণের উৎপাত যেকোন কারণে  হতে পারে। ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি একটু বেশি হয়ে থাকে। তবে গরমের কারণে ব্রনের সমস্যা আরো মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে। 

তীব্র তাপের কারণে ত্বক সবসময়ই ঘামে। ফলে ত্বকের কোষগুলো স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি আঁঠালো হয়ে থাকে। 

বাইরের পৃষ্ঠে মৃত চামড়ার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে জমা হয়। ফলে ত্বকের নিচে অক্সিজেনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। 

এক্ষেত্রে এটি ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, এর ফলে ব্রণ হয়।

পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে কিশোর-কিশোরীদের ব্রণের সমস্যা দেখা যায়। এটি মূলত বয়ঃসন্ধিকালীন একটি সমস্যা। বিভিন্ন বয়সে নারী-পুরুষের ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পাবে। 

ফলে চিন্তিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। খুব বেশি হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।

ব্রণ হওয়ার কারণ

বিশেষজ্ঞরা ব্রণ হওয়ার অনেকগুলো কারণ বলে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হল হরমোন ক্ষরণের তারতম্য বা অভাব, ত্বকের অযত্ন, জীবাণুর সংক্রমণ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুম না হওয়া, তেলযুক্ত ও অসাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ইত্যাদি।

ব্রণ থেকে মুক্ত থাকার প্রধান শর্ত হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন।
  • ব্রণ মূলত ত্বকে হয়ে থাকে। তাই ত্বক পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরী। তবে এই শুষ্ক আবহাওয়ার দিনে ত্বকে কোন প্রকার ধুলাবালি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
    কারণ ত্বকে ধুলাবালি জমার ফলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্রণ দেখা দিতে পারে।

  • গরমের সময় শরীর থেকে বিভিন্নভাবে পানি বেড়িয়ে যাই। ঘাম হল এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘামের মাধ্যমেই শীরের পানি কমে যাই।
    ফলে শীরের পানি কমে যাওয়া  ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ।

  • সঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে ব্রণ হতে পারে। ঘুমানোর সময় শরীর তার নিজের কাজগুলো করতে থাকে যা আমাদের সুস্থ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
    ঘুমের সময়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ বা তৈরির মতো জটিল বিষয়গুলো ঘটতে থাকে। ফলে অমিয়মিত ঘুমের কারণে ব্রণ প্রতিরোধকারী হরমোনগুলো বাধাগ্রস্থ হয়।
    তখন ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
    এছাড়াও অনেক রোগের কারণ হল সঠিক পরিমাণে ঘুম না হওয়া।

  • ছেলে-মেয়ে উভয়েরই বয়ঃসন্ধিকালে সময় মুখে ব্রণ হয়ে থাকে। কারণ এই সময়, কিশোর-কিশোরীরা বয়ঃসন্ধিকালে সময় তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে থাকে।
    ফলে তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সামনে আসতে থাকে। যেমন- ঘুম ঠিকমতো হয় না, অবসাদ তৈরি হয়, খাবারদাবার বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকে না, শরীরের যত্ন নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে হরমোনের অভাব দেখা দেয় আর এগুলোর জন্য ব্রণ হয়ে থাকে।

  • অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার কারণে ব্রণ হতে পারে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফার্স্ট ফুড, কোমল পানীয়, ডিপফ্রাই করা খাবার ইত্যাদি খাবার খাওয়ার কারণে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। আর এই সব খাবার খাওয়ার করণে ঠিকমত হজম হয় না। 
    পেট পরিষ্কার না থাকা বা নিয়মিত মলত্যাগ না করা শুধু ব্রণ নয় আরও অন্যান্য রোগের কারণ।

কিভাবে ব্রণ দূর হবে

খুব সহজেই ব্রণ দূর হবে। এর খুব সহজ প্রতিকার হল সুস্থ জীবন যাপন করা। ব্রণের মূল প্রতিকারব্যবস্থা  হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।

এছাড়াও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, সময় মতো ঘুমানো, নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া ইত্যাদি মাধ্যমে ব্রণ থেকে মুক্তির প্রতিকার পাওয়া যায়। আর খুব বেশি সমস্যা হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

১। যখনই বাড়ির বাইরে যাবেন ফিরে এসে, তখনই পানি দিয়ে মুখের উপরি ভাগ ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে ত্বক পরিষ্কার ও তরতাজা থাকবে। 

ফলে জীবাণুর সংক্রমণ এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমবে। তৈলাক্ত ত্বকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলতে হবে। করণ তৈলাক্ত ত্বকে ময়লা খুব দ্রুত জমে।

২। সারা দিনে পর্যপ্ত পানি পান করতে হবে। যাতে শরীরে পানি অভাব না হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে।

৩। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর নিয়ম। কারও ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে এবং একই সময় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এতে শরীরের কাজগুলো ঠিকমতো ঘটতে থাকবে এবং ব্রণ হবে না।

৪। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও আঁশজাতীয় খাবার রাখতে হবে।

মুখের ব্রণ দূর করার টিপস

  • বিউটি স্যালনে গিয়ে মাসে এক বা দুবার ফেসিয়াল করিয়ে নেওয়া যায়। এতে ত্বক পরিষ্কার থাকবে।
  • রাতে প্রতিদিন চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই পানি পান করলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।
  • এক চামচ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর সঙ্গে চার-পাঁচটি করে তুলসী ও নিমপাতা পেস্ট করে নিয়মিত খেলে ব্রণের সমস্যায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

সর্বশেষ কিছু কথা

বন্ধুরা যেসব কারণে এই গরমে মুখের ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় এ সম্পর্কে জানলাম। বন্ধুরা কোথাও যদি বুঝতে না পাড়েন তাহলে কমেন্ট করুন। আশা করি, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। 

বন্ধুরা এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ‍Amarload.com এর সাথে থাকার জন্য।