সহজে প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম

সহজে প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম - অনেকেরই ধারণা নেই এই প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে। তাই বাংলাদেশ সরকার তথ্য বাতায়ন নামে খুলেছে।
প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম জেনে নিন - অনেকেরই ধারণা নেই এই প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে। তাই বাংলাদেশ সরকার তথ্য বাতায়ন নামে একটি একটি তথ্য সেবা চালু করেছে। আর এই তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে খুব সহজে তথ্য পেতে পারেন। 
সহজে প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম

প্রথমত আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তবে হ্যা, অনলাইনে আবেদন করার সময় সতর্কতার সাথে পূরণের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রেরণ করার সময় ভালোভাবে যাচাই বাচাই করে প্রেরণ করতে হবে। একটি ধাপ পূরণ করার পর পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করুন। পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করার পর আগের ধাপের পূরণকৃত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

১। আবেদন ফরমের লাল স্টার চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। 

২। আবেদনের সময় যদি পেমেন্ট/ অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকে তাহলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।

৩। আবেদন ফরমে ছবি (প্রযোজ্য হলে) ও স্বাক্ষর আপলোড করুন এবং যে সব কাগজপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করা প্রয়োজন (সাইজ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে ) সেগুলো “সংযুক্ত” অপশনে ক্লিক করে আপলোড করুন।

৪। “অফিস বাছাই করুন” অপশন হতে আবেদনটি যে অফিসে পাঠাতে চান সেই অফিস নির্বাচন করুন।

৫। এরপর ‘প্রেরণ’ বাটনে ক্লিক করুন। “আপনার আবেদনটি সফলভাবে প্রেরণ করা হয়েছে” মর্মে একটি বার্তা আসবে।

৬। আবেদন পাঠানোর পর আপনি একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাবেন। এটি সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে “আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা” বাটনে ক্লিক করে এই নম্বরটি দিয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে পারবেন।

৭। আপনি আবেদন প্রেরণ না করা পর্যন্ত আপনার সিস্টেমে তা খসড়া হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তীতে তা আপনি প্রেরণ করতে পারবেন।

এছাড়াও বিস্তারিত জানতে এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন: http://online.forms.gov.bd

প্রতিবন্ধীতার আইডি কার্ড (পরিচয় পত্র) প্রাপ্তির জন অনলানে যা করতে হবে

১। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

২। শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পক্ষে তার অভিভাবক অথবা কোন সংস্থা এই সাইট ব্যবহার করবেন।

৩। আবেদনকারীর জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।

৪। আবেদন ফরম এর মধ্যে আবেদনকারীর স্বাক্ষর এর জায়গায় স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসাতে হবে।

৫। ভেলিড মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল এড্রেস থাকতে হবে।

৬। অনলাইন আবেদন ফরমটি আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে দাখিল হবে।

৭। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয় হতে প্রদত্ত সময় অনুযায়ী ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাজির হতে হবে।

৮। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাজির হবার সময় অনলাইন আবেদন ফরম সাবমিটের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত প্রিন্টেড কপি সাথে আনতে হবে।

৯। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয় হতে এসএমএস পাওয়ার পর পরিচয় পত্র (আইডি কার্ড) সংগ্রহ করতে হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পেতে যা করণীয়

✔ এমআইএস-এ  অন্তর্ভুক্ত হতে ভাতা কার্ড যাদের আছে তাদেরকে প্রতিবন্ধিতা আইডি কার্ডসহ সংশ্লিষ্ট শহর সমাজসেবা/ উপজেলা সমাজসেবা/ জেলা সমাজসেবা কাযালয়/ কাউন্সিলর/ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

✔ যাদের ভাতাকার্ড নেই কিন্তু প্রতিবন্ধিতা আইডি কার্ড আছে তাদেরকে ভাতার জন্য অনলাইন থেকে অথবা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে সংশ্লিষ্ট শহর সমাজসেবা/ উপজেলা সমাজসেবা/ জেলা সমাজসেবা কাযালয়/ কাউন্সিলর/ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সাথে নিজের ছয় কপি পাসপোট সাইজের সত্যায়িত ছবি, নমিনির চার কপি পাসপোট সাইজের সত্যায়িত ছবি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এছাড়াও আবেদনটি কমিশনার/কাউন্সিলরকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

✔ যাদের প্রতিবন্ধিতা আইডি কার্ড নেই তাদেরকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শহর সমাজসেবা/ উপজেলা সমাজসেবা/ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রতিবন্ধিতা আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। তারা একটি আবেদন ফর্ম দেবেন (যা অনলাইনেও dis.gov.bd পাওয়া যায়) সেটা পূরণ করে জমা দিয়ে আসতে হবে। তারা প্রার্থীকে একটি স্লিপ দেবেন যেটা নিয়ে পরে যখন তারা ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ডাকবেন তখন যেতে হবে। এরপর আইডি কার্ডটি হাতে পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ কিছু কথা

প্রিয় পাঠক প্রতিবন্ধী কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে জানলাম। এই কন্টেন্ট এর কোথাও যদি বুঝতে না পাড়েন তাহলে কমেন্ট করুন। আশা করি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লাগে থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ‍Amarload.com এর সাথে থাকার জন্য।