ই-সিম (eSIM) কি?

ই-সিম হলো ইলেকট্রনিক সিম। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ই-সিম কী, ই-সিম এর কাজ, ই-সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা, ই-সিম কোথায় পাওয়া যাবে।
ই-সিম কি?

SIM এর পূর্ণরুপ হল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিফিকেশন মডিউল (subscriber identification module) যার বাংলা অর্থ গ্রাহক পরিচিতি মডিউল। সিম (SIM) একটি স্মার্ট পরিচয় ব্যবস্থা। এটি বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করে মোবাইল নাম্বার এর মতন। তাছাড়াও সিম হল ইন্টারনেটের সুবিধা ও কল বা মেসেজ পাঠানোর মাধ্যম। এক কথায় সিম কার্ড হল কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সহজ মাধ্যম।

এই সিমটাতে আমারা তিন ধরণের সাইজ এখন পর্যন্ত দেখে আসছি। একটা বড় সাইজ ছিল যেটাকে আমার মিনি সিম (Mini SIM) বলতাম, তার পর আসলো মাইক্রো সিম (Micro SIM) আরেকটু ছোট, এর পর আসলো ন্যানো সিম (Nano SIM) আর এখন দাঁড়িয়ে আমরা শুনছি ই-সিম। 
SIM এর স্লট

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক  ই-সিম কী, ই-সিম এর কাজ, ই-সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা, ই-সিম কোথায় পাওয়া যাবে?

ই-সিম কি (What is eSIM)?

ই-সিম হলো ''ইলেকট্রনিক সিম'' অথবা বলতে পাড়ি Embedded SIM। মনে করুন আমার কাছে একটি আইফোন ১৩ ফোন রয়েছে আর যখন ওই ফোনটি নতুন কেনা হয় ফোনটার মাঝে একটা সিম বিলটিং অবস্থায় ছিল। তখন ওর মাঝে অবশ্যই একটি সিম ছিল। আর ওই ই-সিমটা আইফোন ১৩ ফোনের মাঝে বিলটিং অবস্থায় আসে কিন্তু সেখানে কোন নাম্বার ও কোন আডিটি ওই ভাবে থাকে না।

কিন্তু সেইটা আপনি আলাদা করে নিয়ে নিতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হল কার কাছ থেকে নেবেন, মোবাইল অপারেটর এর কাছ থেকে নিবেন। যেমন বাংলাদেশে প্রথম গ্রামীণফোন ই-সিম লঞ্চ করলো।

জানি বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে, সহজ করে বলতে গেলে আমরা যে রেগুলার সিম কার্ড এতদিন যাবদ ব্যবহার করে আসছিলাম এই সিমে আমরা কি দেখতে পাই। একটা চিপ রয়েছে। সেখানে ছোট সিম হোক বা বড় সিম হোক তার প্রত্যেকটাতেই পিতলের মত আপনি কিছু প্লেট দেখতে পাবেন। এর নিচে হয়তো কোন একটি আইসি রয়েছে বা কিছু একটা রয়েছে।

যখন আমরা আমাদের ফোনে সিম কার্ডটা প্রবেশ করাই। তখন আমরা মোবাইল অপারেটরের সাথে কানেক্টেড হতে পাড়ি। তার পর আমার কথা বলতে পাড়ি, ডাটা ব্যবহার করতে পাড়ি। এখন আমি বলছিলাম, যে ফোনগুলোতে ই-সিম সার্পোট করে তার মাঝে বিলটিং একটা চিপ দেওয়াই আছে। কিন্তু সেখানে কোন ইউনিক নাম্বার দেওয়ার নেই। অর্থাৎ কোন অপারেটরের বা কোন মোবাইল নাম্বার সেট করা নেই।

এবার যখন আপনি ই-সিম নিতে চাচ্ছেন কোম্পানির থেকে QR Code স্ক্যান এর মাধ্যমে আপনার ফোনটাতে সেটা সেট করে নিতে পারছেন। তাহলে যেটা দ্বারালো, আপনাকে কোন আলাদা ফিজিক্যাল সিম কার্ড ব্যবহার করতে হবে না। কিন্তু একটা ফিজিক্যাল সিম কার্ড যে ধরণের সুবিধা দিয়ে থাকে এখানে আপনি ঠিক সেই ধরণের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি আরও বাড়তি কিছু সুবিধা রয়েছে।

ই-সিম এর সুবিধা (Advantages of e-SIM)

নেটওয়ার্ক স্যুইচ করা সহজ। eSIM মোবাইল নেটওয়ার্ক পাল্টানো অনেক সহজ করে তোলে। আপনার ফোন থেকে পুরানো সিম মুছে ফেলার জন্য আপনাকে একটি সিম 'ইজেক্টর টুল' খুঁজতে যেতে হবে না। 

আপনি অন্য নেটওয়ার্কে অস্থায়ী পরিবর্তন করতে পারেন। ই-সিমে পাঁচটি পর্যন্ত ভার্চুয়াল সিম কার্ড সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এর মানে হল আপনি দ্রুত বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে সুইচ করতে পারবেন। আপনি যদি আপনার স্বাভাবিক নেটওয়ার্কে একটি সংকেত ছাড়াই নিজেকে খুঁজে পান।

এটি ভ্রমণের সময় স্থানীয় নেটওয়ার্কে স্যুইচ করা সহজ করে তোলে। শারীরিকভাবে একটি স্থানীয় সিম ঢোকানেরা প্রয়োজন ছাড়াই। বিদেশে থাকাকালীন স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা আপনার ইউকে নেটওয়ার্কে রোমিং খরচ দেওয়ার চেয়ে অনেক সস্তা হতে পারে। আপনার ফোন থেকে আপনার ইউকে সিম না সরানোর ফলে এটি হারানোর ঝুঁকিও কমে যাবে।

ই-সিম আপনাকে একাধিক সিম রাখার অনুমতি দেয়। eSIM এর আরেকটি সুবিধা হল ফিজিক্যাল সিমকে এবং এর ট্রের আর কোনো প্রয়োজন হবে না। 

হ্যান্ডসেটগুলিকে ছোট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। সুবিধা হলো স্মার্টওয়াচের মতো পরিধানযোগ্য ডিভইস পরতে চায় না। অ্যাপেল ওয়াচের সিরিজ ৫ এবং সিরিজ ৪ এ ইতিমধ্যেই eSIM আছে। এগুলোর ব্যবহার বেড়ে যাবে।

ই-সিম এর অসুবিধা (Disadvantages of e-SIM)

সাধারণত বলা হয়, যে কোনো জিনিসের সুবিধা ও অসুবিধা দুইটাই থাকে। তেমনি eSIM এর কয়েকটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে।

দ্রুত ফোন পরিবর্তন কার সহজ নয়। মনে করুন এই মুহূর্তে, আপনার হ্যান্ডসেট কাজ করা বন্ধ করে দিল তাহলে আপনি সহজেই এক ফোন থেকে অন্য ফোনে পরিবর্তন করতে পারবেন না। এটি একটি গুরুতরো অসুবিধা।

আপনি কোথাও লুকোতে পারবেন না। এই eSIM ব্যবহার করার ফলে আপনার গতিবিধি ট্র্যাক সম্পর্কে জানতে পারা যাবে। যা একটি নেতিবাচক দিক হিসাবে দেখা যেতে পারে। তবে এটি একটি সুবিধাও হতে পারে কারণ কোনো ফোন চুরি হওয়া আর সেই ফোনের লোকেশন অবস্থান সহজে লুকাতে পারে না। ফলে ফোন চুরির থেকে রেহায় পাওয়া যেতে পারে।

সব স্মার্টফোনে কি একটি eSIM আছে? (Do all smartphones have an eSIM?)

এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি স্মার্টফোনে ই-সিম পরিধানযোগ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে:-
  • সাম্প্রতিক রিলিজ হওয়া অ্যাপেল এর সব আইফোন এই eSIM ব্যবহার করা যাবে। যেমন: আইফোন ১০এস, আইফোন ১০আর, আইপ্যাড প্রো, আইফোন ১২সিরিজ, আইফোন ১৩ সিরিজ।
  • স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২০ সিরিজ, এস২০+, এস ২০ আল্ট্রা।
  • গুগল এর গুগল পিক্সেল ৬ সিরিজ, পিক্সেল ৫ সিরিজ, পিক্সেল ৩ সিরিজ এবং পিক্সেল ৪ সিরিজ।
  • মটোরোলা রেজার এই ফোনটিতে কোনো শারীরিক সিম কার্ড নেই। শুধুমাত্র eSIM রয়েছে।
  • স্যামসাং গিয়ার এর এস২ এবং এস৩ স্মার্টওয়াচে eSIM রয়েছে।
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৩, ৪ এবং ৫ রয়েছে।

সকল নেটওয়ার্ক কি ই-সিম সাপোর্ট করে?

eSIM এর ব্যবহার

বর্তমানে শুধুমাত্র গ্রামীণফোন চালু করেছে। তবে ভবিষ্যতে পর্যায় ক্রমে একে একে সব অপারেটরা ই-সিম চালু করে দিবে।

আরও পড়ুন:

  1. bkash idlc savings interest rate - বিকাশ আইডিএলসি সঞ্চয় 
  2. ন্যাটো কী? চিনে নিন ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো
এই টপিক টি পুরোটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, এই টপিক এর ভিতর কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে আপনারা কমেন্ট করুন। আশা করি, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ ‍Amarload.com এর সাথে থাকার জন্য।